সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়ার অনার্স শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে একটি বাস্তব সংকট: মানবিক সমাধানে মাননীয় সংসদ সদস্যের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা-মো. আবু ইউসুফ।
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফাতেমা হেরেন-এর দক্ষ, দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বে কলেজটির শিক্ষা, প্রশাসন, শৃঙ্খলা ও একাডেমিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কলেজের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব সংকট আজও রয়ে গেছে-অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র।
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে ২০১৪ সাল থেকে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান-এই চারটি বিষয়ে অনার্স কোর্স সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী এসব বিষয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কলেজটির অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে, যা কলাপাড়া থেকে প্রায় ৬০–৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এই অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী জেলে, কৃষক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিতে তাদের অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়, সময়ের অপচয় ও শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। অনেক পরিবার সন্তানের পরীক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খায়। ফলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার পথ থেকেই ঝরে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কলেজে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার মাঝেই বিয়ে হয়ে যায়, কেউ গর্ভাবস্থায়ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হন। তাদের জন্য এত দূরে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর, কখনো কখনো অসম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে, শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব তাদের পরীক্ষার ফলাফল ও ভবিষ্যতের ওপর পড়ে।
উচ্চশিক্ষা কোনো শিক্ষার্থীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হতে পারে না; বরং তা হওয়া উচিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের নিরাপদ সোপান। অথচ শুধুমাত্র একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব আজ বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আর্থিক বাস্তবতা, নারী শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সমতা বিবেচনায় সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে অথবা অন্তত কলাপাড়া উপজেলায় অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন এখন সময়ের দাবি, একটি যৌক্তিক দাবি এবং সর্বোপরি একটি মানবিক দাবি।
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়,
১১৪ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক আপনি। শিক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আপনার আন্তরিক ভূমিকা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আস্থা ও প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত দাবি বাস্তবায়নে আপনার আন্তরিকতা ও জনবান্ধব নেতৃত্বের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আজ সুদৃঢ়।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কলাপাড়ার অনার্স শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক প্রত্যাশার বিষয়টিও আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আপনার আন্তরিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে যদি সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অনার্স পরীক্ষার কেন্দ্র কলাপাড়ায় স্থাপিত হয়, তবে হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এটি শুধু একটি পরীক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হবে না; বরং উপকূলীয় জনপদের শিক্ষার্থীদের জন্য সমঅধিকার, নিরাপদ উচ্চশিক্ষা এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আমরা বিশ্বাস করি, আপনার একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ কলাপাড়ার উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের হৃদয়ে চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক
মো. আবু ইউসুফ
বিভাগীয় প্রধান (হিসাববিজ্ঞান বিভাগ)
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ
কলাপাড়া, পটুয়াখালী।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply